মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মৃতিতে আজও বিশেষভাবে জড়িয়ে রয়েছে ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি। সত্তরের দশকে একাধিক ছবির শুটিংয়ের কারণে এই রাজবাড়িতে বারবার এসেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা। শুধু শুটিং নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে এসেছেন উত্তমকুমার। এমনকি অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন বলে জানাচ্ছেন রাজ পরিবারের সদস্যরা।
উত্তমকুমারের সেই স্মৃতিবিজড়িত রাজবাড়ি দেখতে এখনও দূরদূরান্ত থেকে বহু অনুরাগী ঝাড়গ্রামে আসেন। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই রাজবাড়ির ভিতরে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ। ফলে মহানায়কের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য সামনে থেকে দেখার সুযোগ না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে হয়।
ঝাড়গ্রাম রাজ পরিবারের সদস্য জয়দীপ মল্লদেব জানান, উত্তমকুমারের সঙ্গে রাজবাড়ির সম্পর্ক ছিল বেশ ঘনিষ্ঠ। তাঁর কথায়, “উত্তমকুমার শুধু শুটিংয়ের জন্য নয়, ব্যক্তিগত ভাবেও বহুবার এসেছেন। সুপ্রিয়া দেবীকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি তাঁর খুব প্রিয় জায়গা ছিল।”

শুটিংয়ের সময় রাজবাড়ির ডিলাক্স ঘরেই থাকতেন মহানায়ক। তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হত। এমনই এক ঘটনায় উত্তমকুমারকে দেখতে গিয়ে পাঁচিল টপকাতে গিয়ে সারদাপীঠ বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা পড়ে গিয়ে পা ভেঙেছিলেন বলে জানা যায়। উত্তমকুমারকে ঘিরে সেই বিপুল ভিড় সামলাতে তৎকালীন রাজা নরসিংহ মল্লদেব নিজেই উদ্যোগী হয়েছিলেন। তিনি মহানায়ককে বাইরে নিয়ে এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করান। প্রিয় অভিনেতাকে সামনে দেখতে পেয়েই শান্ত হয়ে যায় উত্তেজিত জনতা।
তবে সময়ের সঙ্গে রাজবাড়ির নিরাপত্তা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জয়দীপ মল্লদেবের বক্তব্য, অতীতে মন্দিরের দেওয়ালে অশালীন লেখা, অতিথিদের বিরক্ত করা এবং মন্দির থেকে পাথরের হনুমান মূর্তি চুরির মতো ঘটনাও ঘটেছে। সেই কারণেই বর্তমানে রাজবাড়ির ভিতরে সাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে এবার দর্শনার্থীদের জন্য অন্তত রাজবাড়ির বাইরের অংশ খুলে দেওয়ার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। জয়দীপ জানান, দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে যাতে হতাশ হয়ে ফিরে না যান, সে জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত তাঁদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বিধায়কও অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ির মূল অংশের আগে একটি গেট তৈরি করে সেখানে সিভিক ভলান্টিয়ার বা নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর বিষয়টি প্রশাসনের কাছেও জানানো হবে।
আরও পড়ুন,
Ditipriya: আবারও স্নিগ্ধ সাজে মুগ্ধ করলেন দিতিপ্রিয়া রায়, নজর কাড়লো ঐতিহ্যবাহী লুক
ফলে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির কিছুটা অংশ দর্শনার্থীদের জন্য ফের খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর তা বাস্তবায়িত হলে মহানায়ক উত্তমকুমারের স্মৃতিবিজড়িত এই রাজবাড়িতে ফের পা রাখার সুযোগ পাবেন তাঁর অসংখ্য অনুরাগী।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.