নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরলেন বসিরহাটের প্রৌঢ় দম্পতি অনুকূল পোদ্দার ও তাঁর স্ত্রী রেবা। বাসচালকের সময়োচিত সিদ্ধান্ত এবং উপস্থিত বুদ্ধির জেরেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। বিপর্যয়ের ঠিক আগে স্যাপ্রুবেসী থেকে বাস ঘুরিয়ে দেন চালক। কাঠমান্ডুর দিকে ফেরার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁরা যে এলাকা থেকে সরে এসেছিলেন, তা হড়পা বানের জলের তোড়ে ভেসে যায়। বসিরহাটের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাছারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা অনুকূল পোদ্দার অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। স্ত্রী রেবাকে সঙ্গে নিয়ে গত ২১ অগস্ট কলকাতা থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। তাঁদের গন্তব্য ছিল কৈলাস মানস সরোবর। কিন্তু যাত্রাপথেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তাঁরা।
অনুকূল জানিয়েছেন, গত বুধবার সকালে তাঁদের বাস স্যাপ্রুবেসী এলাকায় পৌঁছনোর পর আচমকাই গাড়ি থামিয়ে দেন চালক। কেরুং অভিবাসনকেন্দ্র তখনও প্রায় এক ঘণ্টা দূরে। চালক জানান, সামনে হড়পা বান নেমেছে। পরিস্থিতি বুঝে আর এগোনোর ঝুঁকি নেননি তিনি। সঙ্গে সঙ্গে বাস ঘুরিয়ে কাঠমান্ডুর দিকে রওনা দেন। অনুকূলের কথায়, সেই সময় তাঁরা গিরিখাতের দিক থেকে মেঘের মতো কিছু ধেয়ে আসতে দেখেছিলেন। সঙ্গে ছিল তীব্র গর্জনের শব্দ। কী ঘটছে, তা প্রথমে বুঝতেই পারেননি তাঁরা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কে উঁচু জায়গার দিকে ছুটতে দেখেন তাঁরা। কেউ চিৎকার করছিলেন, কেউ কাঁদছিলেন।
বাসচালকের সিদ্ধান্ত যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা পরে বুঝতে পারেন পোদ্দার দম্পতি। তাঁরা যে জায়গায় দাঁড়িয়েছিলেন, কয়েক মিনিটের মধ্যেই হড়পা বানের জলে সেই এলাকা ভেসে যায়। সময় মতো বাস ঘুরিয়ে না দিলে তাঁদের কী পরিণতি হত, তা ভাবলেই শিউরে উঠছেন তাঁরা। তবে নেপালের এই বিপর্যয়ে বসিরহাটের আরও এক দম্পতি, স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী, নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরাও অনুকূলদের সঙ্গে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন। দুই দম্পতি আলাদা ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে গেলেও একই দিনে কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন,
‘জলের রঙ গাঢ় হচ্ছে’, ফের নয়া বিপদের সতর্কবার্তা নেপালে! উদ্ধারকারী টিম পাঠাল ভারত, ত্রাণে কী কী?
অনুকূল জানিয়েছেন, মণ্ডল দম্পতির গাড়ি তাঁদের গাড়ির আগে কেরুং অভিবাসনকেন্দ্রে পৌঁছনোর কথা ছিল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাঁরা সেখানে পৌঁছেও যান। এমনকি অভিবাসনকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে স্বপন সেই ছবি অনুকূলকে পাঠিয়েছিলেন। ছবির সঙ্গে ‘সুপ্রভাত’ মেসেজও পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিপর্যয়ের পর থেকেই মণ্ডল দম্পতির সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন,
নেপালে এখনও নিখোঁজ ২৮৭ ভারতীয়, উদ্ধার ৮৮ জন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছচ্ছে দ্বিতীয় দল
এদিকে পোদ্দার দম্পতি শনিবার নেপাল থেকে বিহারের রক্সৌলে পৌঁছেছেন। সেখান থেকে পর্যটকদের একটি দলের সঙ্গে মিথিলা এক্সপ্রেসে উঠেছেন তাঁরা। ভ্রমণ সংস্থার কর্মী-সহ আরও কয়েকজন তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। রবিবার ভোরে ট্রেনে তাঁদের হাওড়ায় পৌঁছনোর কথা। ভ্রমণ সংস্থার সিনিয়র ম্যানেজার অমিত সরকার জানিয়েছেন, তাঁদের দলের পাঁচ জন ইতিমধ্যেই বিমানে রাজ্যে ফিরে এসেছেন। বাকি সদস্যরা রক্সৌল থেকে ট্রেনে ফিরছেন। তাঁদের মধ্যে পোদ্দার দম্পতিও রয়েছেন।
আরও পড়ুন,
হাঁড়ি হাঁড়ি বিরিয়ানি, কেজি কেজি মাংস ফেলা হল নালায়!
নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার পর আপাতত দেশে ফেরার পথেই রয়েছেন অনুকূল ও রেবা। আর তাঁদের মুখে শোনা সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা আরও একবার মনে করিয়ে দিচ্ছে—প্রকৃতির রুদ্ররূপের সামনে কয়েক মিনিটের সিদ্ধান্তই কখনও কখনও জীবন-মৃত্যুর ফারাক গড়ে দিতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.