স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরেও দেশের মানুষের একাংশের মনে স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাচ্ছন্দ্য, সামাজিক সম্প্রীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে আজও প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছতে পারেনি দেশ, এমনই আক্ষেপ উঠে এসেছে এক প্রবীণ নাগরিকের স্মৃতিচারণে।
১৯৪৪ সালে শৈশবে কলকাতায় আসেন তিনি। দমদম এলাকায় তাঁর শৈশব কেটেছে। প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসের সময়কার অস্থিরতা তিনি শিশুমনে দেখেছেন। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা এলেও তখন তার তাৎপর্য বোঝার বয়স হয়নি। পরে ধীরে ধীরে স্বাধীনতা আন্দোলন, বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ এবং দেশভাগ-সহ ইতিহাসের নানা অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারেন।
শৈশবের স্বাধীনতা দিবসের স্মৃতিও তাঁর কাছে এখনও উজ্জ্বল। স্থানীয় একটি জিমন্যাস্টিক ক্লাবে সাদা পোশাক পরে স্বাধীনতা উৎসবে যোগ দেওয়া, ব্যান্ড ও বাঁশিতে দেশাত্মবোধক গান, তেরঙা পতাকা উত্তোলন, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবিতে মাল্যদান—এই ছিল সেই সময়ের উদ্যাপন। লজেন্স ও বিস্কুট বিতরণও ছিল আনন্দের অংশ। কোনও অতিরিক্ত আড়ম্বর ছাড়াই সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণেই স্বাধীনতা দিবসের উৎসব সম্পন্ন হত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কেও তাঁর উপলব্ধি গভীর হয়। ইংরেজ বণিকদের শাসকে পরিণত হওয়া, সাম্রাজ্যবাদী শোষণ, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের বিপ্লবী ভূমিকা এবং মহাত্মা গান্ধীর অবদান—ইতিহাসের নানা অধ্যায় তাঁকে স্বাধীনতার মূল্য বুঝতে সাহায্য করে।
তবে সেই উপলব্ধির জায়গা থেকেই পরবর্তীতে জন্ম নেয় প্রশ্ন—দেশ কি সত্যিই সম্পূর্ণ স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে? তাঁর মতে, স্বাধীনতার অর্থ শুধু বিদেশি শাসন থেকে মুক্তি নয়; নাগরিকের নিরাপদে বেঁচে থাকা, নির্বিঘ্নে মতপ্রকাশ করা, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া এবং জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক পরিবেশে বসবাস করাও স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও রয়েছে তাঁর উদ্বেগ। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের একাংশ ক্ষমতায় এসে মানুষের সেবার বদলে ক্ষমতাকে নিজেদের অধিকার হিসেবে দেখতে শুরু করেন। নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করা, ক্ষমতার অপব্যবহার, লোভ ও মিথ্যাচারের মতো প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করে বলে তাঁর মত। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার বিষয়টিও। অনেকেই সমস্যায় পড়ার আশঙ্কায় ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করতে চান না। তাঁর মতে, এটিও নাগরিক স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার একটি লক্ষণ।
রাজনীতির উপস্থিতিকে তিনি নিজে থেকে নেতিবাচক বলে মনে করেন না। বরং সঠিক ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতি মানুষের স্বার্থেই প্রয়োজন বলে তাঁর মত। কিন্তু রাজনীতির অপপ্রয়োগ হলে সমস্যা তৈরি হয়। একই সঙ্গে উৎসবের সর্বজনীন চরিত্র হারিয়ে গিয়ে তা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও তিনি আক্ষেপ করেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রত্যাশা একটি এমন স্বাধীন দেশের, যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে শ্বাস নিতে পারবেন, নির্ভয়ে কথা বলতে পারবেন এবং জাতি-ধর্মের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতা ও মনুষ্যত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেখানে স্বাধীনতা দিবস কিংবা অন্য কোনও উৎসব সত্যিকার অর্থেই সকল মানুষের হয়ে উঠবে।
তাঁর কথায়, স্বাধীনতার প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন দেশের নাগরিকদের আলাদা করে প্রমাণ করতে হবে না যে তাঁরা স্বাধীন দেশের মানুষ—তাঁদের জীবনযাপন, নিরাপত্তা, অধিকার ও পারস্পরিক সম্পর্কই সেই স্বাধীনতার পরিচয় বহন করবে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.