অযোধ্যার রাম মন্দির পরিচালনায় বড়সড় পরিবর্তন। প্রথমবারের জন্য নিয়োগ করা হল চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার বা CEO। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হল ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জীতেন্দ্র মিশ্রকে। অপারেশন সিঁদুরের সময় বায়ুসেনার ওয়েস্টার্ন কম্যান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।
রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অনিয়ম ও চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর মন্দির পরিচালন ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে CEO পদ তৈরি করে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জীতেন্দ্র মিশ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হল। মন্দিরের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও সামলাবেন তিনি।
কে এই জীতেন্দ্র মিশ্র?
১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ফাইটার পাইলট হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দিয়েছিলেন জীতেন্দ্র মিশ্র। পুণের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে পড়াশোনা করার পর বেঙ্গালুরুর এয়ার ফোর্স পাইলট স্কুল থেকে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন সামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পড়াশোনা করেছেন।
প্রায় ৩৮ বছর বায়ুসেনায় পরিষেবা দেওয়ার পর চলতি বছরের মে মাসে অবসর নেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্মান। সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা মেডেল, অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল এবং বিশিষ্ট সেবা মেডেলে সম্মানিত হয়েছেন এই প্রাক্তন এয়ার মার্শাল। অপারেশন সিঁদুরের সময় বায়ুসেনার ওয়েস্টার্ন কম্যান্ডের দায়িত্বে থাকায় তাঁর সামরিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কীভাবে বাছাই করা হল রাম মন্দিরের CEO?
রাম মন্দিরের CEO পদের জন্য মোট ৫৫৮৫ জন আবেদন করেছিলেন। বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলির নেতৃত্বে ওই প্যানেল নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। প্রথমে ৬০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেই পরীক্ষার পর ১৬ জন প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ের জন্য বেছে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁদের মধ্য থেকেই জীতেন্দ্র মিশ্রকে রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রথম CEO হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, প্রশাসনিক ও ম্যানেজমেন্ট দক্ষতা, দূরদর্শিতা-সহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করেই তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ট্রাস্টে আরও তিন নতুন মুখ
জীতেন্দ্র মিশ্র ছাড়াও রাম মন্দির ট্রাস্টে আরও তিনজনকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মদন মোহন পাণ্ডে, মহেশ বাগচন্দকা এবং নির্মলা যাদব।
উল্লেখ্য, রাম মন্দিরের অনুদান চুরির অভিযোগের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর মন্দির ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন চম্পত রাই। এবার প্রথমবার CEO নিয়োগের মাধ্যমে মন্দিরের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও পেশাদার কাঠামো আনার পথে হাঁটল রাম মন্দির ট্রাস্ট।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.