শিশু হাঁটার সময়ে একদিকে হেলে থাকে? মেরুদণ্ড বাঁকা হওয়ার এই লক্ষণগুলি চিনুন

শিশুর হাঁটাচলা, বসার ভঙ্গি বা শরীরের গঠনে সামান্য পরিবর্তনও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে হাঁটার সময়ে যদি শিশুকে বারবার একদিকে হেলে থাকতে দেখা যায়, কিংবা বসার সময় শরীর বেশি ঝুঁকে থাকে, তা হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এর নেপথ্যে থাকতে পারে স্কোলিয়োসিস, অর্থাৎ মেরুদণ্ডের অস্বাভাবিক বাঁক।

স্কোলিয়োসিস কী?

স্বাভাবিক অবস্থায় মেরুদণ্ড সোজা থাকে। কিন্তু স্কোলিয়োসিস হলে মেরুদণ্ড ডান বা বাঁ দিকে অস্বাভাবিক ভাবে বেঁকে যায়। ফলে শিশুর শরীরের ভারসাম্য ও গঠনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ছোট বয়সে রোগটি সহজে বোঝা যায় না। তাই শিশুর দৈনন্দিন চলাফেরা ও শরীরের গঠনের দিকে নজর রাখা জরুরি।

কেন হয় স্কোলিয়োসিস?

স্কোলিয়োসিসের সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। কিছু ক্ষেত্রে পারিবারিক বা জিনগত প্রবণতা ভূমিকা রাখতে পারে। আবার মেরুদণ্ডের হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা অন্য কোনও হাড়ের সমস্যার কারণেও এই ধরনের বক্রতা তৈরি হতে পারে।

স্কোলিয়োসিসের কয়েকটি ধরন রয়েছে। যেমন—

জন্মগত স্কোলিয়োসিস: গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের মেরুদণ্ডের হাড় ঠিকমতো তৈরি না হলে জন্মের পর থেকেই মেরুদণ্ডের গঠনে বক্রতা থাকতে পারে।

ইডিয়োপ্যাথিক স্কোলিয়োসিস: এর নির্দিষ্ট কারণ সবসময় জানা যায় না। সাধারণত ১০ বছর বয়সের পর, বিশেষ করে দ্রুত বাড়বৃদ্ধির সময়ে, এই ধরনের স্কোলিয়োসিস ধরা পড়তে পারে।

নিউরোমাস্কুলার স্কোলিয়োসিস: কিছু স্নায়ু ও পেশির সমস্যার সঙ্গে যুক্ত শিশুদের মধ্যে মেরুদণ্ডের গঠনে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।

কোন লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হবেন?

শিশুর ক্ষেত্রে নিচের পরিবর্তনগুলি নিয়মিত লক্ষ্য করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
*হাঁটার সময় শরীর একদিকে হেলে থাকা।
*বসার সময় শরীর অস্বাভাবিক ভাবে একদিকে ঝুঁকে যাওয়া।
*পিঠ বা কোমরের এক পাশের হাড় অন্য পাশের তুলনায় বেশি উঁচু দেখানো।
*দুই কাঁধ সমান না থাকা।
*একটি কাঁধ অন্যটির তুলনায় বেশি উঁচু থাকা।
*কোমর বা নিতম্বের গঠনে অসমতা দেখা দেওয়া।
*বসা বা শোয়ার সময় অস্বস্তি হওয়া।
*শরীরের ভঙ্গিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসা।

অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা বা অন্য কোনও স্পষ্ট উপসর্গ না থাকলেও মেরুদণ্ডের বক্রতা থাকতে পারে। তাই শিশুর শরীরের গঠন ও ভঙ্গিতে নতুন কোনও পরিবর্তন চোখে পড়লে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

চিকিৎসা না করলে কী হতে পারে?

স্কোলিয়োসিসের মাত্রা বেশি হলে বা সময়ের সঙ্গে বক্রতা বাড়তে থাকলে মেরুদণ্ডের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে পাঁজরের গঠনেও প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়ে শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌যন্ত্রের উপরেও চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই শিশুর মেরুদণ্ডের বক্রতা চোখে পড়লে অপেক্ষা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে ধরা পড়ে স্কোলিয়োসিস?

চিকিৎসক শিশুর শরীরের গঠন ও মেরুদণ্ড পরীক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে করাতে পারেন। পরীক্ষার মাধ্যমে মেরুদণ্ডের বক্রতার মাত্রা ও ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

চিকিৎসা কী?

স্কোলিয়োসিসের চিকিৎসা নির্ভর করে শিশুর বয়স, মেরুদণ্ডের বক্রতার মাত্রা এবং তা বাড়ছে কি না—এই বিষয়গুলির উপর। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ ধরনের ব্রেস বা বেল্ট ব্যবহার করা হয়, যাতে মেরুদণ্ডের বক্রতা আরও বেড়ে না যায়। বক্রতা গুরুতর হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

চোখ ঠেলে বেরিয়ে আসছে? পল্লব গুটিয়ে যাচ্ছে, থাইরয়েডের কারণেও হতে পারে এই গুরুতর চোখের রোগ

বাবা-মায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
শিশুর হাঁটার ভঙ্গি, বসার ধরন, কাঁধ ও কোমরের গঠন নিয়মিত লক্ষ্য করুন। শরীর একদিকে হেলে থাকা বা দুই কাঁধের উচ্চতায় স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেলে সেটিকে শুধুমাত্র স্বাভাবিক ভঙ্গি ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক