বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ সন্দীপ্তা সেন। ছোটপর্দার গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমানে সিনেমা ও ওয়েব সিরিজেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর অভিনীত বহু প্রতীক্ষিত ওয়েব সিরিজ ‘বীরাঙ্গনা ২’ মুক্তির অপেক্ষায়। তবে কাজের ব্যস্ততার মাঝেও বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আনন্দে কোনও খামতি রাখতে চান না সন্দীপ্তা।
পুজোর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে কেনাকাটা, পুজো পরিক্রমা এবং পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরার পরিকল্পনা। এবারের পুজোর প্ল্যান নিয়ে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও তাঁর পুজো পরিক্রমা থাকবে। বেশ কিছুটা সময় সেখানেই কেটে যাবে। সপ্তমীর দুপুরে মা-বাবা, সৌম্য ও সন্দীপ্তা—চারজন একসঙ্গে লাঞ্চ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী পর্যন্ত বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা রয়েছে অভিনেত্রীর। পাশাপাশি একদিন সিনেমা দেখারও ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে ‘একেনবাবু’ দেখার পরিকল্পনা করেছেন সন্দীপ্তা। নবমীতে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথাও চলছে। যদিও এখনও গন্তব্য চূড়ান্ত হয়নি।
পুজোর কেনাকাটাও প্রায় শেষ সন্দীপ্তার। মা-বাবার জন্য কেনাকাটা করে ফেলেছেন তিনি। নিজের শপিংও প্রায় শেষের পথে। তবে স্বামী সৌম্য এখনও ব্যস্ত থাকায় তাঁর কেনাকাটা বাকি রয়েছে। আগামী মাসের শুরুতে কিছুটা সময় বের করে সৌম্য শপিং করবেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পুজোর সাজ নিয়েও সন্দীপ্তার পছন্দ বেশ সাবেকি। পুজোর সময় শাড়িই তাঁর প্রথম পছন্দ। পুজো পরিক্রমা কিংবা অষ্টমীর অঞ্জলিতে শাড়ি পরতেই ভালোবাসেন তিনি। পাশাপাশি রয়েছে ইস্টার্ন কুর্তিও। আর বাড়ির আড্ডার জন্য পছন্দ একেবারে ক্যাজুয়াল পোশাক।
পুজোর চারদিন অবশ্য ডায়েটের কোনও বালাই নেই সন্দীপ্তার। অভিনেত্রীর কথায়, পুজোর শপিং করতেও তিনি খেতে খেতে যান। আর পুজোর চারদিন ডায়েট করার প্রশ্নই নেই—বরং জমিয়ে খাওয়াদাওয়া করতেই পছন্দ করেন তিনি।
গত দশ বছরে পুজোর চেহারায় বেশ কিছু পরিবর্তনও লক্ষ্য করেছেন সন্দীপ্তা। তাঁর মতে, বর্তমানে থিম পুজোর সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাঁদের মতো শিল্পীদের জন্য ভালো। তবে আগে পুজো উপলক্ষে কলকাতায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উপস্থিতি বেশি দেখা যেত, এখন সেই প্রবণতা কিছুটা কমেছে বলেই মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, পেশাগত দিক থেকেও সেই সময়টা বেশ লাভজনক ছিল।
পুজোর প্রেমের প্রসঙ্গ উঠতেই অবশ্য হেসে ফেলেন সন্দীপ্তা। ঠাকুর দেখতে গিয়ে কখনও প্রেমে পড়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী জানান, পুজোয় তাঁর কখনও প্রেম হয়নি। ছোটবেলায় কাজিনদের সঙ্গে প্যান্ডেলে ঘুরতে গিয়ে বরং অন্যদের প্রেমের কাণ্ডকারখানা দেখতেন—কে কাকে নজর দিচ্ছে, কে কার সঙ্গে ফোন নম্বর বিনিময় করছে, সেসবই ছিল মজার বিষয়।
তবে ছোটবেলার পুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল রাইড। সন্দীপ্তার কথায়, ছোটবেলায় তাঁর কাছে পুজো মানেই ছিল রাইডে চড়া। সেটাই ছিল তাঁর অন্যতম নেশা। এবারও তাই কাজের ব্যস্ততা সরিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখা, সিনেমা আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনাতেই উৎসব কাটাতে চান অভিনেত্রী।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.
