স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় বিষয়। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্তক্ষরণ শুরু হলে যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, ততই রোগীকে গুরুতর বিপদের হাত থেকে বাঁচানোর সম্ভাবনা বাড়ে। বিশেষ করে ইস্কেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর প্রথম কয়েক মিনিটও নষ্ট করা উচিত নয়।
হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, হাত-পায়ের এক দিক অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা বা অন্ধকার দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না। এমনকি কয়েক মিনিটের মধ্যে উপসর্গ সেরে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এটি ‘ট্র্যান্সিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক’ বা TIA, অর্থাৎ মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। পরে বড় স্ট্রোকের ঝুঁকিও থাকতে পারে।
স্ট্রোক হলে কোন ৩টি ভুল এড়াবেন?
১. মুখে জল বা খাবার দেবেন না
স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির গিলতে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে রোগী অচেতন থাকলে বা মুখ বেঁকে গেলে জোর করে জল কিংবা খাবার খাওয়ানো বিপজ্জনক। খাবার বা জল খাদ্যনালির বদলে ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসকষ্ট বা গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।
২. নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ দেবেন না
স্ট্রোক মানেই অ্যাসপিরিন খাওয়াতে হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। কারণ স্ট্রোক ইস্কেমিক না হেমারেজিক, তা পরীক্ষা ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে অ্যাসপিরিনের মতো রক্ত পাতলা করার ওষুধ পরিস্থিতি আরও গুরুতর করে দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ দেওয়া উচিত নয়।
৩. উপসর্গ সেরে গেলে বাড়িতে রেখে দেবেন না
কয়েক মিনিটের মধ্যে কথা বলা, হাত-পা নাড়ানো বা দৃষ্টির সমস্যা স্বাভাবিক হয়ে গেলেও নিশ্চিন্ত হওয়ার কারণ নেই। এ ধরনের সাময়িক উপসর্গ TIA-এর ইঙ্গিত হতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে বড় স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই উপসর্গ সেরে গেলেও দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রথম ৫ মিনিটে কী করবেন?
লক্ষণ চিনুন: মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক দিক দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারার মতো লক্ষণ দেখলে দ্রুত পদক্ষেপ করুন।
সময় লিখে রাখুন: ঠিক কখন থেকে লক্ষণ শুরু হয়েছে, সেই সময়টি মনে রাখুন বা লিখে রাখুন। হাসপাতালে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপদ অবস্থায় রাখুন: রোগী সচেতন থাকলে মাথা সামান্য উঁচু করে শুইয়ে রাখুন। অচেতন হলে এক পাশে কাত করে রাখুন, যাতে শ্বাসনালিতে লালা বা বমি ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছনো। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে বাড়িতে বসে কোনও ঘরোয়া চিকিৎসা বা নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা না করে যত দ্রুত সম্ভব জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ কয়েক মিনিটের দেরিও মস্তিষ্কের ক্ষতি বাড়িয়ে দিতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.