খাবারের স্বাদ ও গন্ধ একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনও খাবারের সুগন্ধ যেমন মুহূর্তে খিদে বাড়িয়ে দিতে পারে, তেমনই তীব্র দুর্গন্ধে অনেকের গা গুলিয়ে উঠতে পারে। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলির গন্ধ প্রথমবার নাকে এলেই অনেকে খেতেই চাইবেন না। অথচ স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাদ্যঐতিহ্যের কারণে সেগুলির জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে বহু মানুষ আগ্রহ নিয়ে এই খাবারগুলি খান।
সুইডেনের সুরস্ট্রোমিং
সুরস্ট্রোমিং মূলত বাল্টিক হেরিং মাছ, যা দীর্ঘদিন লবণের মাধ্যমে গাঁজিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। টিন খোলার সঙ্গে সঙ্গেই এর তীব্র গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। অনভ্যস্তদের কাছে সেই গন্ধ অত্যন্ত অস্বস্তিকর মনে হতে পারে।
সুরস্ট্রোমিং সাধারণত পাতলা রুটি, সেদ্ধ আলু ও কুচোনো পেঁয়াজের সঙ্গে খাওয়া হয়। এর গন্ধের কারণে অনেকে বাড়ির বাইরে বা খোলা জায়গায় টিন খোলেন।
আইসল্যান্ডের হাকার্ল
হাকার্ল তৈরি হয় গ্রিনল্যান্ড হাঙরের মাংস দিয়ে। বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও গাঁজন করার পর এই মাংস খাওয়ার উপযোগী করা হয়। এই প্রক্রিয়ার কারণে হাকার্লে তীব্র অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ তৈরি হয়।
প্রথমবার খেতে গেলে গন্ধের জন্য অস্বস্তি হলেও আইসল্যান্ডের খাদ্যসংস্কৃতিতে হাকার্লের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই বহু মানুষ এটি উপভোগ করেন।
তাইওয়ানের স্টিঙ্কি টোফু
নামেই যার পরিচয়—স্টিঙ্কি টোফু। টোফুকে বিশেষ ধরনের গন্ধযুক্ত তরলে কয়েক দিন গাঁজিয়ে তৈরি করা হয় এই খাবার। ফলে এর গন্ধ এতটাই তীব্র হয় যে দূর থেকেই অনেক সময় বোঝা যায়, কোথাও স্টিঙ্কি টোফু তৈরি হচ্ছে।
তবে গন্ধ যতই তীব্র হোক, তাইওয়ানের স্ট্রিট ফুড সংস্কৃতিতে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। সাধারণত টোফু ভেজে মুচমুচে করে পরিবেশন করা হয়।
গ্রিনল্যান্ডের কিভিয়াক
কিভিয়াক তৈরির পদ্ধতিই একে বিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত খাবারে পরিণত করেছে। ছোট সামুদ্রিক পাখিকে সিলের চামড়ার ভিতরে ভরে দীর্ঘ সময় গাঁজিয়ে রাখা হয়। কয়েক মাস পর সেই সংরক্ষিত খাবার বের করে খাওয়া হয়।
দীর্ঘদিন গাঁজনের কারণে এর গন্ধ অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে। তবে গ্রিনল্যান্ডের কিছু অঞ্চলে এটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে বিশেষ মর্যাদা পায়।
জাপানের নাট্টো
গাঁজানো সয়াবিন থেকে তৈরি নাট্টো জাপানের পরিচিত খাবারগুলির অন্যতম। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য শুধু তীব্র গন্ধ নয়, আঠালো ও সুতো-সুতো টেক্সচারও। চপস্টিকে তুললে এটি লম্বা আঠালো সুতো তৈরি করে।
অনভ্যস্তদের কাছে নাট্টোর গন্ধ ও টেক্সচার অদ্ভুত লাগলেও জাপানে এটি নিয়মিত খাবারের অংশ। বিশেষ করে সকালের খাবারে নাট্টো খাওয়ার চল রয়েছে।
নরওয়ের লুটেফিস্ক
লুটেফিস্ক তৈরিতে বিশেষ ধরনের সাদা মাছকে ক্ষারীয় দ্রবণে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরে মাছটি ধুয়ে রান্না করা হয়। এই প্রক্রিয়ার ফলে মাছের গঠন বদলে গিয়ে নরম ও জেলির মতো হয়ে যায়।
লুটেফিস্কের গন্ধ ও টেক্সচার অনেকের কাছেই অপরিচিত মনে হতে পারে। কিন্তু নরওয়ের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিতে এর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার হোঙ্গিও
হোঙ্গিও তৈরি হয় স্কেট মাছ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে। এই মাছ সংরক্ষণের সময় শরীরের রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে তীব্র অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ তৈরি হয়। সেই গন্ধই হোঙ্গিওকে বিশ্বের অন্যতম তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার হিসেবে পরিচিত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় সাধারণত কিমচি ও শূকরের মাংসের সঙ্গে হোঙ্গিও পরিবেশন করা হয়। স্থানীয় খাদ্যঐতিহ্যে এই খাবারের বিশেষ জায়গা রয়েছে।
গন্ধে অস্বস্তি, তবু জনপ্রিয় কেন?
এই খাবারগুলির প্রতি আকর্ষণের মূল কারণ শুধু স্বাদ নয়। স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা খাদ্যাভ্যাসও এর জনপ্রিয়তার বড় কারণ। ফলে যে গন্ধ অন্য দেশের মানুষের কাছে অসহ্য মনে হতে পারে, স্থানীয়দের কাছে সেটিই হয়ে উঠেছে পরিচিত ও প্রিয় খাবারের বৈশিষ্ট্য।
গলায় ফোলা ভাব, রাতে অতিরিক্ত ঘাম? লিম্ফোমার ৫ উপসর্গ চিনে রাখুন
বিশ্বের খাদ্যসংস্কৃতি যে কতটা বৈচিত্র্যময়, তীব্র গন্ধের এই খাবারগুলিই তার অন্যতম উদাহরণ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.