গরম বাড়তেই রোদে পুড়ে ত্বকে ট্যান পড়ার সমস্যা বেড়েছে। অনেকেই দ্রুত ট্যান দূর করার আশায় নানা ঘরোয়া টোটকা বা বাজারচলতি ডি-ট্যান প্রসাধনীর উপর ভরসা করছেন। কেউ লেবু ঘষছেন, কেউ বারবার স্ক্রাব করছেন, আবার কেউ পার্লারে গিয়ে ডি-ট্যান ট্রিটমেন্ট করিয়ে নিশ্চিন্ত হচ্ছেন। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসগুলির অনেকই উপকারের বদলে উল্টো ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ট্যান আসলে ত্বকের উপরে জমে থাকা কোনও ময়লা নয়, যা ঘষে তুলে ফেলা যাবে। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে মেলানিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এই মেলানিনই ত্বককে কালচে বা তামাটে দেখায়। ফলে রাতারাতি ট্যান মুছে ফেলার ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
অনেকেই মনে করেন, বেশি স্ক্রাবিং বা এক্সফোলিয়েশন করলে দ্রুত ট্যান উঠে যাবে। বাস্তবে এতে ত্বকের উপরের সুরক্ষাস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতিরিক্ত ঘষাঘষির ফলে ত্বকে জ্বালা, প্রদাহ কিংবা ছোট ছোট দাগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘমেয়াদে ত্বক আরও সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে।

ত্বকে সরাসরি লেবু লাগানোর প্রবণতাও বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড অত্যন্ত তীব্র। সরাসরি প্রয়োগ করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, র্যাশ বা জ্বালাভাব দেখা দিতে পারে। এমনকি রোদে বেরোলে ত্বক আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। কিছু ক্ষেত্রে সূর্যের আলো ও লেবুর রাসায়নিক উপাদানের বিক্রিয়ায় গাঢ় দাগও পড়তে পারে।
ডি-ট্যান ক্রিম বা ফেসপ্যাক বেশি ব্যবহার করলে দ্রুত ফল মিলবে— এই ধারণাও ভুল। ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত অধিকাংশ সক্রিয় উপাদান কাজ করতে সময় নেয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বকে অস্বস্তি, জ্বালা বা অ্যালার্জির ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই নির্দেশ মেনে এবং সীমিত মাত্রায় ব্যবহার করাই নিরাপদ।
অনেকেই পার্লারে একবার ডি-ট্যান করানোর পর ভাবেন, সমস্যা মিটে গিয়েছে। কিন্তু নিয়মিত রোদে বেরোলে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে আবারও ট্যান ফিরে আসতে পারে। তাই কেবল ডি-ট্যান নয়, ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করাই সবচেয়ে জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাইরে বেরোনোর আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভিতরেও সানস্ক্রিন লাগিয়ে রাখা প্রয়োজন হতে পারে, কারণ সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি জানালার কাচ ভেদ করেও ত্বকের ক্ষতি করতে সক্ষম। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জলপান, ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলাও ত্বক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।