Vastu: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমী। হিন্দু ধর্মে এই দিনটির বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র তিথিতেই ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই জন্মাষ্টমীর দিন ভক্তিভরে গোপাল বা শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন অসংখ্য ভক্ত।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত জ্যোতিষীয় মত অনুযায়ী, জন্মাষ্টমীর দিনে কয়েকটি বিশেষ নিয়ম ও উপায় পালন করলে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি কাটতে পারে এবং মনোস্কামনা পূরণের পথ সুগম হয়। দেখে নিন জন্মাষ্টমীর দিনের এমনই ৬টি প্রচলিত উপায়।
১. তামার ঘটিতে গঙ্গাজল ও গোলাপজল রাখুন
জন্মাষ্টমীর সকালে একটি পরিষ্কার ও চকচকে তামার ঘটি নিন। তাতে গঙ্গাজল ও গোলাপজল মিশিয়ে দু’টি তুলসীপাতা দিন। এরপর সেটি গোপালের সিংহাসনের কাছে রেখে নিজের মনের ইচ্ছার কথা স্মরণ করুন।
রাত ১২টায় গোপালের জন্মপুজোর সময় সেই জল দিয়ে কৃষ্ণমূর্তি বা গোপালকে স্নান করানো যেতে পারে। যাঁদের বাড়িতে গোপাল প্রতিষ্ঠিত নেই, তাঁরা সেই জল তুলসীগাছে অর্পণ করতে পারেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এতে মনোস্কামনা পূরণ হয়।
২. উপবাস রেখে রাতের পুজোর পর ব্রত ভাঙুন
অনেক ভক্ত জন্মাষ্টমীর দিন উপবাস পালন করেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, রাত ১২টায় গোপালের জন্মপুজো সম্পন্ন হওয়ার পর ব্রত ভাঙা শুভ বলে মনে করা হয়।
তবে শারীরিক অসুস্থতা বা স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা থাকলে কঠোর উপবাস না করে ফল বা শরবত খাওয়া যেতে পারে।
৩. প্রার্থনার সময় বাঁশি ও রঙিন ধাগা ব্যবহার করুন
জন্মাষ্টমীর দিন বিশেষ কোনও ইচ্ছা বা প্রার্থনা থাকলে গোপালের হাতে সবুজ ও হলুদ রঙের ধাগা বাঁধার প্রচলন রয়েছে। পাশাপাশি শ্রীকৃষ্ণের হাতে একটি বাঁশি দিয়ে ভক্তিভরে নিজের প্রার্থনা জানানো হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এইভাবে আন্তরিক মনে প্রার্থনা করলে শুভ ফল পাওয়া যেতে পারে।
৪. গোপালকে হলুদ পোশাক ও হলুদ ভোগ দিন
জন্মাষ্টমীর পুজোয় হলুদ রঙকে শুভ বলে মনে করা হয়। এই দিনে গোপালকে হলুদ রঙের পোশাক পরানো যেতে পারে। ভক্তরাও হলুদ বস্ত্র পরিধান করতে পারেন।
পুজোর সময় হলুদ রঙের মিষ্টি ভোগ হিসেবে নিবেদন করা এবং হলুদ ফুল দিয়ে আরাধনা করারও প্রচলন রয়েছে।
৫. পঞ্চামৃত দিয়ে গোপালকে স্নান করান
জন্মাষ্টমীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আচার হল পঞ্চামৃত দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ বা গোপালকে স্নান করানো। সাধারণত দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি দিয়ে পঞ্চামৃত তৈরি করা হয়।
ভক্তিভরে পঞ্চামৃত স্নান করানোর পর গোপালকে নতুন পোশাক ও অলংকারে সাজিয়ে পুজো করা হয়।
৬. দাম্পত্য ও সন্তানের পড়াশোনার সমস্যায় বাঁশি-ময়ূরের পালকের উপায়
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দাম্পত্যজীবনে অশান্তি থাকলে জন্মাষ্টমীর দিন একটি বাঁশের তৈরি বাঁশিতে ময়ূরের পালক লাগিয়ে সেটি শ্রীকৃষ্ণের কাছে রেখে প্রার্থনা করা যেতে পারে।
পরের দিন সেই বাঁশিটি শোয়ার ঘরের দেওয়ালে, বালিশের দিকের অংশে লাগানোর প্রচলন রয়েছে। আবার সন্তানের পড়াশোনায় মনোযোগের সমস্যা থাকলে একইভাবে পুজো করা বাঁশিটি সন্তানের পড়ার টেবিলের কাছে রাখা যেতে পারে।
Vastu: জল সংক্রান্ত বিপর্যয়ের আশঙ্কা! জ্যোতিষশাস্ত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী আগামী দিনে কী ঘটতে পারে?
জন্মাষ্টমীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভক্তি ও আন্তরিকতা
জন্মাষ্টমীর এই উপায়গুলি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত আচার-অনুষ্ঠানের অংশ। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠা, ভক্তি ও আন্তরিকতার সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করলে মানসিক শান্তি এবং জীবনে ইতিবাচক শক্তি লাভ করা যায়। তবে জীবনের গুরুতর সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.