‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে প্রবেশের পর থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেতা জীতু কমল। রিয়্যালিটি শোয়ে প্রবেশের আগে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি বিশেষ টাস্কে অংশ নেন অভিনেতা। সেই টাস্কে ‘বিগ বস বাংলা’-র প্রতিযোগীদের ছবি দেখে জীতুকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কাকে তিনি খেলায় রাখতে চান এবং কাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে চান। আর এই টাস্কেই সায়ক চক্রবর্তীর ছবি হাতে নিয়ে জীতুর একটি মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
সায়কের ছবি হাতে নিয়ে জীতু নাটকীয় ভঙ্গিতে বলেন, ‘বাবা! টাচ করলেই বিপদ!’ এরপর ছবিটি ডাস্টবিনে ফেলে দেন তিনি। জীতুর এই আচরণ ও মন্তব্য নিয়েই এবার সরব হয়েছেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সায়কের পাশে দাঁড়িয়ে জীতুর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মানবী। তাঁর অভিযোগ, সায়কের ছবি ঘৃণার সঙ্গে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত আপত্তিকর। মানবীর প্রশ্ন, সায়ক এমন কী করেছেন যে তাঁর ছবি ছুঁলেই যেন কারও ‘জাত চলে যাবে’!
সায়কের ব্যক্তিগত জীবন ও তাঁর যৌন অভিমুখিতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যেই নানা ধরনের কটাক্ষ ও বিদ্রুপ দেখা যায়। যদিও সায়ক নিজে তাঁর যৌন অভিমুখিতা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। এই পরিস্থিতিতে জীতুর মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, সায়ক অত্যন্ত সংগ্রাম করে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাই বিগ বসের ঘরে তাঁর প্রতি এমন আচরণ তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও কষ্ট দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে সায়কের মায়ের কথা উল্লেখ করে জীতুর আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল বলেই মনে করেন মানবী।
তবে শুধু সায়ক নন, বর্ষীয়ান অভিনেতা ভরত কলের ছবি ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার বিষয়টিও মানবীর নজর এড়ায়নি। তাঁর অভিযোগ, জীতুর আচরণের মধ্যে ‘পৌরুষের অহঙ্কার’ প্রকাশ পেয়েছে। একজন প্রবীণ শিল্পীর প্রতি এমন আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মানবীর বক্তব্য অনুযায়ী, জীতু যেন নিজেকে ‘পৌরুষের প্রতিনিধি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এমনকি আমির খানের ‘ডামি’ হওয়ার চেষ্টা এবং সোহিনীকে ‘দিদি’ বলে নিজেকে ‘জেন জি’ প্রমাণের চেষ্টারও কটাক্ষ করেন তিনি।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে মানবীর ‘হোমোফোবিয়া’ প্রসঙ্গ তোলায়। তাঁর দাবি, সায়কের প্রতি জীতুর আচরণে ‘স্ট্রেট অ্যাটিটিউড’ জাহির করার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এই কারণেই জীতুর আচরণকে তিনি ‘হোমোফোবিক’ বলে তীব্র সমালোচনা করেন। পোস্টের শেষদিকে মানবী লেখেন, জীতুর এই কথিত অহঙ্কার ও ‘হোমোফোবিয়া’ ভাঙতে তাঁর মতো একজন মানুষের প্রয়োজন, যিনি অভিনেতার এই ‘অপমানজনক স্ট্রেট অ্যাটিটিউড’-এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবেন।
সত্যজিৎ রায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পাওয়া জীতু কমলের ‘বিগ বস বাংলা’-য় প্রবেশের শুরুতেই এমন বিতর্কে জড়িয়ে পড়া নিঃসন্দেহে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.