Nepal Flash Flood: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে চোখের সামনে তছনছ হয়ে গিয়েছিল ঘরবাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে জলের স্রোতে ভেসে গিয়েছিল ছোট্ট মনীষাও। তারপর ধ্বংসস্তূপের নীচে কেটেছে প্রায় ৬০ ঘণ্টা। মৃত্যুকে হারিয়ে অবশেষে উদ্ধার হওয়ার পর মা-বাবার কাছে ফিরেছে সে। কিন্তু বাবা-মাকে কাছে পেয়েই অভিমানী প্রশ্ন, ‘আমাকে বাঁচাতে এলে না কেন?’
নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির অন্যতম রসুয়া জেলা। সেখানেই হড়পা বানের ভয়াবহ স্রোতে ভেসে গিয়েছিল মনীষা নামে ওই নাবালিকা। তিন দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকার পর উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় নতুন জীবন ফিরে পায় সে। মনীষার মায়ের কথায়, হড়পা বান আসার দিন সকালে খাবার খেয়ে তাঁরা মাঠে কাজ করতে বেরিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে বেরোনোর পরই আচমকা প্রবল জলের স্রোত আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় তাঁদের বাড়ি। সেই স্রোতেই বেশ কিছুটা দূরে ভেসে যায় মনীষা। পরে একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায় সে।
তবে ধ্বংসস্তূপের নীচেও বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যায় নাবালিকা। কোনও ভাবে সেখানে বাতাস চলাচলের জায়গা থাকায় শ্বাস নিতে পেরেছিল সে। প্রায় ৬০ ঘণ্টা ওই অবস্থায় থাকার পর উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় কান্নার শব্দ শুনতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মনীষাকে।
আরও পড়ুন,
পোস্ট অফিসে ছুটতে হবে না, মোবাইলেই মিলবে পরিষেবা! India Post-এর ‘Dak Sewa’ অ্যাপ কীভাবে কাজ করবে?
উদ্ধারের সময় মনীষার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত গুরুতর। মুখে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল, রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দেখে চিনতেই পারেননি পরিবারের সদস্যরা। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি মেডিক্যাল ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে মনীষা। এরপর প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর মেয়েকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।
মনীষার বাবা জানিয়েছেন, মেয়েকে যে অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, তাতে তাঁরা ভাবতেই পারেননি সে বেঁচে থাকবে। মুখে এতটাই আঘাত ছিল যে প্রথমে তাকে চেনাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই মেয়েকে ফের জীবিত অবস্থায় কাছে পেয়ে তাঁদের আনন্দের সীমা নেই।
তবে ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার স্মৃতি এখনও মনীষার মনে তাজা। তাই বাবা-মায়ের কাছে ফিরে প্রথমেই তার প্রশ্ন— ‘আমাকে বাঁচাতে এলে না কেন?’ অভিমান মেশানো সেই প্রশ্নই যেন নেপালের ভয়াবহ বন্যায় হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য পরিবারের অসহায়তার প্রতিচ্ছবি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.