মাঝেমধ্যেই পা ফুলছে? কিডনি ছাড়াও নেপথ্যে থাকতে পারে এই রোগগুলি

পা ফুলে যাওয়াকে অনেকেই সামান্য সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, বেশি হাঁটাচলা কিংবা আঁটোসাঁটো জুতো পরার কারণেও পা সাময়িক ভাবে ফুলতে পারে। তবে বার বার বা অস্বাভাবিক ভাবে পা ফুলতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ, এর নেপথ্যে কিডনির সমস্যা ছাড়াও হার্ট, শিরা কিংবা রক্ত জমাট বাঁধার মতো জটিলতা থাকতে পারে।
চিকিৎসক এসএ মল্লিকের মতে, পা ফুললেই কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছে—এমনটা ভাবার কারণ নেই। পা ফুলে যাওয়ার একাধিক কারণ থাকতে পারে।

১. ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সি
পায়ের শিরার মাধ্যমে রক্তকে আবার হৃদ্‌যন্ত্রে ফিরে যেতে হয়। শিরার ভাল্ভ ঠিকমতো কাজ না করলে রক্ত উপরের দিকে না গিয়ে পায়ের নীচের অংশে জমতে পারে। ফলে পা ও গোড়ালিতে ফোলাভাব দেখা দেয়।
যাঁদের কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যেমন শিক্ষক বা ট্রাফিক পুলিশ, তাঁদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফলে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে পায়ের দিকে রক্ত জমার প্রবণতা বাড়ে।

২. হার্ট ফেলিয়োর
হৃদ্‌যন্ত্র দুর্বল হয়ে গেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনমতো রক্ত পাম্প করতে পারে না। এর ফলে শিরায় চাপ বেড়ে গিয়ে তরল পদার্থ আশপাশের টিস্যুতে জমতে শুরু করতে পারে। এই অবস্থাকে এডিমা বলা হয়।
হার্ট ফেলিয়োরের ক্ষেত্রে বিশেষ করে পায়ের নীচের অংশ, গোড়ালি ও পাতায় ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।

৩. কিডনির সমস্যা
কিডনি শরীরের অতিরিক্ত জল ও নুন বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে যেতে পারে। সেই তরল টিস্যুতে জমে পা ও গোড়ালি ফুলে যেতে পারে।
তাই বার বার পা ফুললে কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে শুধু পা ফোলার ভিত্তিতে কিডনি বিকল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

৪. ডিপ ভেন থ্রম্বোসিস বা DVT
শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে গেলে ডিপ ভেন থ্রম্বোসিস বা DVT হতে পারে। সাধারণত পায়ের গভীর শিরায় এই ধরনের রক্ত জমাট তৈরি হয় এবং আক্রান্ত পা ফুলে যেতে পারে।
কখনও দ্রুত ফোলাভাব দেখা দিতে পারে, আবার কখনও দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যা থাকতে পারে। এই অবস্থাকে অবহেলা করা বিপজ্জনক। কারণ রক্ত জমাটের অংশ ছুটে ফুসফুসে পৌঁছলে পালমোনারি এমবোলিজমের মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে।

৫. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও পা ও গোড়ালিতে ফোলাভাব বা পেরিফেরাল এডিমা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধ, যেমন অ্যামলোডিপিন; ব্যথানাশক আইবুপ্রোফেন; ডায়াবিটিসের ওষুধ পিয়োগ্লিটাজোন এবং কিছু স্টেরয়েড, যেমন প্রেডনিসোন।
তাই নতুন কোনও ওষুধ শুরু করার পর পা ফুলতে শুরু করলে চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো জরুরি। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

কখন সতর্ক হবেন?
মাঝেমধ্যে সামান্য ফোলাভাব সব সময় গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। তবে বার বার পা ফুললে, ফোলাভাব ক্রমশ বাড়লে কিংবা এর সঙ্গে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুকে অস্বস্তি বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

রক্তাল্পতায় ক্লান্তি? আয়রন বাড়াতে ডায়েটে রাখুন হেম্পবীজের এই চাটনি

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পা ফুললেই শুধু কিডনির সমস্যা ধরে নেওয়া উচিত নয়। কারণ বুঝতে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা করানোই সঠিক পথ।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক