সিগনাল ভাঙলেই এআইয়ের নজরে, ক্যামেরায় ধরা পড়লেই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা: হুঁশিয়ারি মন্ত্রী অর্জুনের

সিগনাল ভাঙা, রেজিস্ট্রেশনহীন গাড়ি, ভুল নম্বর ব্যবহার কিংবা চুরি যাওয়া গাড়ি—এবার প্রযুক্তির নজর এড়ানো কঠিন। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সিগন্যালের ক্যামেরার মাধ্যমে গাড়ির উপর নজরদারি চালিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ শুরু করেছে রাজ্য পরিবহণ দফতর। ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

বুধবার নিজের বাসভবনে রাজ্য সরকারের ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে এমনই একাধিক ঘোষণা করেন শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি জানান, রাস্তায় ক্যামেরায় ধরা পড়া গাড়ির নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন না থাকলে, ভুল নম্বর ব্যবহার করলে কিংবা সেটি চুরি যাওয়া গাড়ি হলে দ্রুত তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী বলেন, কোনও অপরাধী বা বেআইনি গাড়ি যাতে নজর এড়িয়ে যেতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ক্যামেরা থেকে কন্ট্রোল রুমে তথ্য পৌঁছবে এবং সেখান থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ কমানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রাস্তায় দায়িত্বে থাকা এমভিআই এবং আরটিও আধিকারিকদেরও বডি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পড়ুয়াদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বেআইনি পুলকার বন্ধ করতেও কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। রেজিস্ট্রেশনহীন, কর না দেওয়া কিংবা ১৫ বছরের বেশি পুরনো পুলকার বন্ধ করার জন্য স্কুলগুলিকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এই ধরনের গাড়ি বন্ধ করতে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে পড়ুয়া এবং চালক উভয়েরই ঝুঁকি থাকায় পুরনো ও বেআইনি পুলকার ব্যবহারে আপত্তি জানিয়েছে পরিবহণ দফতর। রেজিস্ট্রেশনহীন গাড়ির বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে। মন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রায় ২৭ লক্ষ রেজিস্ট্রেশনহীন গাড়ি ছিল। ইতিমধ্যে ১৬ থেকে ১৭ লক্ষ গাড়িকে রেজিস্ট্রেশন ও করের আওতায় আনা হয়েছে।

টোটোর বদলে ই-রিকশা, মেন রোডে নিয়ন্ত্রণ
টোটো নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, মিউনিসিপ্যালিটির রেজিস্ট্রেশনকে বৈধ পরিবহণ রেজিস্ট্রেশন হিসেবে ধরা হবে না। টোটোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সংখ্যায় ই-রিকশা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মেন রোডে টোটো চলাচল বন্ধ করার পাশাপাশি প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক পারমিট দেওয়ার ভাবনাও রয়েছে। অটো এবং ৮ থেকে ১২ আসনের ছোট গাড়ি চালানোর বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে।

দুর্গাপুজোর আগে ৬০০ নতুন বাস
যাত্রী পরিষেবা বাড়াতেও একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুজোর মধ্যে ৬০০টি নতুন বাস রাস্তায় নামানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সিএনজি ও বৈদ্যুতিক বাস মিলিয়ে আগামী মার্চের মধ্যে মোট বাসের সংখ্যা প্রায় ১,০০০ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জলপথ পরিবহণকেও আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নবদ্বীপ থেকে কলকাতা-সহ বিভিন্ন গন্তব্যে জল-ট্যাক্সি পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

শ্রম দফতরের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন অর্জুন সিং। মুর্শিদাবাদে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য বড় ইএসআইসি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ তৈরির অনুমোদন মিলেছে বলে দাবি করেন তিনি। রাজ্যের ১৫টি জুটমিলের মধ্যে ১১টি ইতিমধ্যে খুলেছে এবং বাকি চারটিও খোলার চেষ্টা চলছে। বন্ধ চা-বাগানগুলিও পুনরায় খোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৪০৬ টাকা করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। চুক্তিভিত্তিক কাজে পিএফ, ইএসআই এবং গ্র্যাচুইটির নথিভুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

পরিবহণ দফতরে দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে চারজন আরটিও আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অর্জুনের স্পষ্ট বার্তা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে এবং আগামী দিনেও সেই নীতি বজায় থাকবে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ—পরিবহণ ব্যবস্থায় অনিয়ম রুখতে একাধিক স্তরে কড়াকড়ি বাড়ানোর ইঙ্গিতই দিয়েছেন মন্ত্রী।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক