সকাল-সন্ধ্যা ধূপ জ্বালান? ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ছে কি, জানুন কী বলছে বিজ্ঞান

সকাল-সন্ধ্যার পুজো, উৎসব কিংবা ঘরে সুগন্ধ ছড়াতে অনেকেই নিয়মিত ধূপ জ্বালান। কিন্তু ধূপের ধোঁয়া কি শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে, নাকি দীর্ঘদিনের সংস্পর্শে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে? বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ালেও, ধূপের ধোঁয়া সরাসরি ডায়াবেটিস ঘটায়—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও নেই।

ধূপের ধোঁয়া নিয়ে কেন সতর্কতা?

ধূপ জ্বালানোর সময় শুধু সুগন্ধই ছড়ায় না। এর সঙ্গে সূক্ষ্ম কণা বা পার্টিকুলেট ম্যাটার, কার্বন মনোক্সাইড এবং বিভিন্ন উদ্বায়ী রাসায়নিক পদার্থও বাতাসে মিশতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহের মতো প্রক্রিয়া বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি বায়ুদূষণ নিয়ে হওয়া বিভিন্ন গবেষণায় সূক্ষ্ম কণিকার সংস্পর্শের সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হলে শরীরের কোষ ইনসুলিনের প্রতি ঠিকমতো সাড়া দিতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, বায়ুদূষণ নিয়ে পাওয়া গবেষণার ফল সরাসরি ধূপের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ধূপের ধোঁয়া ডায়াবেটিসের সরাসরি কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

ধূপ জ্বালালে কি সঙ্গে সঙ্গে সুগার বেড়ে যায়?

না। ধূপের ধোঁয়া সরাসরি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। রক্তে শর্করা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অসুস্থতা, মানসিক চাপ, কিছু ওষুধ এবং শরীরের বিপাকীয় পরিবর্তনের মতো কারণগুলির ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাই দিনে একটি ধূপ জ্বালানোর অভ্যাসকে ডায়াবেটিসের সরাসরি কারণ হিসেবে দেখার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

কতটা ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকছেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ
মাঝে মধ্যে অল্প সময়ের জন্য একটি ধূপ জ্বালানো এবং প্রতিদিন বন্ধ ঘরে একসঙ্গে একাধিক ধূপ দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানোর প্রভাব এক নয়। ঘরে ধোঁয়ার পরিমাণ যত বেশি এবং বায়ু চলাচল যত কম, ধোঁয়ার সংস্পর্শও তত বেশি হতে পারে।
তাই ধূপ জ্বালানোর সময় জানলা-দরজা খুলে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা ভালো। ছোট ও বন্ধ ঘরে একসঙ্গে অনেক ধূপ জ্বালানো এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

হার্বাল’ বা ‘ন্যাচারাল’ ধূপ কি পুরোপুরি নিরাপদ?

প্যাকেটে ‘হার্বাল’ বা ‘ন্যাচারাল’ লেখা থাকলেই ধূপের ধোঁয়া সম্পূর্ণ ক্ষতিহীন হয়ে যায় না। ধূপে ব্যবহৃত উপাদান, সুগন্ধি এবং পোড়ার ধরন অনুযায়ী নির্গত কণিকা ও রাসায়নিক পদার্থের পরিমাণ বদলাতে পারে।
তাই ধূপের ক্ষেত্রে শুধু উপাদানের নাম নয়, ব্যবহারের পরিমাণ এবং ঘরের বায়ু চলাচলের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

তাহলে কী করবেন?

ধূপ জ্বালানো একেবারে বন্ধ করতেই হবে, এমন কোনও প্রমাণ নেই। তবে অপ্রয়োজনীয় ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমানো সবসময়ই ভালো অভ্যাস। বিশেষ করে বন্ধ ঘরে দীর্ঘ সময় ধরে ধূপ জ্বালানো এড়িয়ে চলুন এবং ধূপ ব্যবহারের সময় ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন।

কোভিডের ধাক্কায় শরীরে ‘ঘুমিয়ে থাকা’ ভাইরাস কি ফের সক্রিয়? নতুন গবেষণায় বড় ইঙ্গিত

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, দিনে একটি ধূপ জ্বালালেই ডায়াবেটিস হবে—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। ধূপের ধোঁয়া নিয়ে সতর্কতার কারণ মূলত অপ্রয়োজনীয় বায়ুদূষণ ও দীর্ঘমেয়াদি ধোঁয়ার সংস্পর্শ। তাই ডায়াবেটিসের ভয় নয়, বরং পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর ঘরের বাতাস নিশ্চিত করাই হোক লক্ষ্য।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক