প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রায় পাঁচ মাস পর ফের চর্চায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। অভিনেত্রী মৌমিতা পণ্ডিত দাবি করেছেন, মৃত্যুর আগে রাহুলের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শুধু দাবি করেই থেমে থাকেননি তিনি, সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এনেছেন। সেই ভিডিয়োয় রাহুল ও মৌমিতাকে একে অপরকে হলুদ আবির মাখিয়ে দিতে দেখা যায়। মৌমিতার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী।
সুদীপ্তা একটি দীর্ঘ পোস্টে রাহুল-মৌমিতার সম্পর্কের দাবি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, প্রেম অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি বিষয়। বিশেষ করে সম্পর্কের এক পক্ষ যখন আর নিজের বক্তব্য জানানোর অবস্থায় নেই, তখন সেই সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।
সুদীপ্তার বক্তব্যে উঠে এসেছে রাহুলের পরিবার, সন্তান, মা, দাদা, ঘনিষ্ঠজন এবং প্রাক্তন স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার প্রসঙ্গও। তাঁর প্রশ্ন, রাহুল যদি সত্যিই মৌমিতাকে ভালোবেসে থাকেন, তা হলে তাঁর সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলির কথা এবং প্রয়াত অভিনেতার সম্মানের কথাও কি ভাবা উচিত ছিল না?
অভিনেত্রীর মতে, ভালোবাসার সঙ্গে সম্মানও জড়িয়ে থাকে। তাই ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা ভিডিয়ো বা সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এনে প্রয়াত মানুষটির সম্মান ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয়। এখানেই মৌমিতার বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর মতের বড় পার্থক্য।
তবে সুদীপ্তার পোস্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উঠে এসেছে রাহুলের মৃত্যুর তদন্তকে ঘিরে। তাঁর বক্তব্য, রাহুলকে সত্যিই ভালোবেসে থাকলে তাঁর মৃত্যুর তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আরও সক্রিয় হওয়া যেত। প্রতিদিন থানায় গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাওয়া, তালসারি থানার কাছে তদন্তে দেরির কারণ জানতে চাওয়া কিংবা ‘I want justice’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়ানোর মতো পদক্ষেপও করা যেত বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুলের। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে এখনও নানা প্রশ্ন রয়েছে এবং তদন্ত নিয়েও আলোচনা চলছে।
সুদীপ্তা আরও মনে করেন, রাহুলের পরিবার যখন তাঁর মৃত্যুর পর কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোও ভালোবাসার অন্যতম প্রকাশ হতে পারত। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠরা যে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের সাহায্য করা এবং তাঁদের ‘হাল ছেড়ো না’ বলে পাশে থাকার মধ্যেই প্রকৃত ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যেত বলে মত তাঁর।
অন্যদিকে, মৌমিতার বক্তব্য, রাহুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করাই প্রয়াত অভিনেতার প্রতি তাঁর সম্মান প্রদর্শনের একটি উপায়। কিন্তু সুদীপ্তার মতে, সম্পর্কের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে প্রমাণ করার চেয়ে রাহুলের অসমাপ্ত লড়াই, তাঁর পরিবার এবং মৃত্যুর তদন্তের পাশে দাঁড়ানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে মৌমিতার দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে টলিপাড়ার অন্দরমহল। রাহুলের ব্যক্তিগত সম্পর্কের আলোচনা থেকে এখন প্রশ্ন উঠছে তাঁর মৃত্যুর তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবিকে ঘিরেও।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.