Vastu: খাবার খাওয়ার সময় কোথায় বসছেন, তা নিয়ে সাধারণত আমরা খুব একটা ভাবি না। পছন্দমতো জায়গা বেছে নিয়ে খাওয়াই আমাদের অভ্যাস। কেউ খাবার টেবিলে বসে খান, আবার কেউ মেঝেতে আসন পেতে খেতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। অনেকের আবার বিছানায় বসে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। তবে বাস্তুশাস্ত্র ও শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভোজনের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত।
শাস্ত্রমতে, বাড়ির যত্রতত্র বসে খাবার খাওয়া শুভ নয়। কোন দিকে মুখ করে খাবেন, কোথায় বসে খাবেন এবং কোন ধরনের পাত্র ব্যবহার করবেন—এ নিয়েও রয়েছে বেশ কিছু বিধান। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই নিয়মগুলি মেনে চললে বাড়িতে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে।
কোন দিকে মুখ করে খাওয়া শুভ?
বাস্তুমতে, ভোজনের সময় পূর্ব অথবা উত্তর-পূর্ব দিকে মুখ করে বসাকে শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দিকে মুখ করে খাবার খেলে ইতিবাচকতা বজায় থাকে এবং তা ব্যক্তির কল্যাণে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ দিককে পূর্বপুরুষদের দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দক্ষিণ দিকে মুখ করে বসে ভোজন করা এড়িয়ে চলা উচিত।
সরাসরি মেঝেতে বসে খাওয়া কি উচিত?
অনেক বাড়িতেই এখনও মেঝেতে বসে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। তবে শাস্ত্রীয় মতে, একেবারে সরাসরি মেঝেতে বসে খাবার খাওয়া উচিত নয়। মেঝেতে বসে খেতে হলে তার উপর আসন, চাটাই বা পরিষ্কার কাপড় পেতে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সরাসরি মেঝেতে বসে খেলে সংসারে অশান্তি ও নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
বাড়িতে কোথায় খাবার টেবিল রাখা যেতে পারে?
বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, বাড়ির পশ্চিম দিকে খাবার টেবিল রাখা যেতে পারে। এই দিকটিকে ভোজনের জন্য উপযোগী বলে মনে করা হয়।
তবে খাবার টেবিল রাখার পাশাপাশি জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসযুক্ত রাখাও জরুরি।
বিছানায় বসে খাওয়া কেন নিষেধ?
অনেকেরই টিভি দেখতে দেখতে বা বিশ্রামের সময় বিছানায় বসে খাবার খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিছানায় বসে ভোজন করা উচিত নয়।
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এই অভ্যাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ভাগ্যের উপর। তাই ভোজনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহার করাই শ্রেয় বলে মনে করা হয়।
ভাঙা পাত্রে খাবার খাবেন না
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাঙা বা চিড় ধরা পাত্রে খাবার খাওয়া অনুচিত। কোনও পাত্রে সামান্য চিড় ধরলেও সেটি ব্যবহার না করে সরিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্বাস করা হয়, ভাঙা পাত্রে খাবার খেলে সংসারে অভাব-অনটন দেখা দিতে পারে এবং দারিদ্র্যের প্রভাব বাড়তে পারে।
অন্ধকার জায়গায় বসে খাবেন না
ভোজনের সময় পর্যাপ্ত আলো থাকা উচিত। অন্ধকার বা খুব কম আলোযুক্ত জায়গায় বসে খাবার খাওয়াকে শাস্ত্রীয় মতে শুভ মনে করা হয় না।
তাই খাবার খাওয়ার জায়গাটি পরিষ্কার ও আলোকিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চৌকাঠ ও শৌচাগারের কাছে বসে ভোজন নয়
বাড়ির চৌকাঠে বসে খাবার খাওয়াও শাস্ত্রীয় মতে অনুচিত। একইভাবে শৌচাগারের সামনে বা তার কাছাকাছি বসে ভোজন না করার কথা বলা হয়েছে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভোজনের জায়গা পরিষ্কার, শান্ত এবং নির্দিষ্ট হওয়াই শুভ। তাই খাবার খাওয়ার জন্য বাড়িতে একটি পরিচ্ছন্ন ও উপযুক্ত স্থান বেছে নেওয়া উচিত।
মনে রাখবেন
শাস্ত্র ও বাস্তুশাস্ত্রের এই নিয়মগুলি মূলত প্রচলিত বিশ্বাস ও ধর্মীয় ধারণার উপর ভিত্তি করে। এগুলিকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নিয়ম হিসেবে না দেখে সাংস্কৃতিক ও আচারগত বিশ্বাস হিসেবে বিবেচনা করাই যুক্তিযুক্ত। তবে পরিচ্ছন্ন জায়গায়, সঠিক আলো-বাতাসে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খাওয়ার অভ্যাস অবশ্যই উপকারী।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.